একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করা সহজ কথা না, ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল এবং রাজনৈতিক কারিশমারও এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ একটা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, এটা নিয়ে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই. লি-ও একইভাবে রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠাতা হতে পারতেন, যদি কনফেডারেসি শেষ পর্যন্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারত। অনেকের মতেই তিনি ছিলেন প্রতিভাবান একজন সেনাপতি এবং আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মানুষ।
তা বলে আমেরিকানরা এখন নিশ্চয়ই শহরের কেন্দ্রে রবার্ট ই. লির ভাস্কর্য পুনঃস্থাপন করবে না, কারণ ভাস্কর্যটি কখনোই তিনি কত বড় সামরিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তার প্রতীক ছিল না। এটি ছিল তিনি কীসের প্রতিনিধিত্ব করতেন, তার প্রতীক। আর তিনি যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করতেন, তা গড়ে উঠেছিল অন্যদের অধীনস্থ করে রাখার ওপর। জিন্নাহকে বলা যায় আমাদের রবার্ট ই. লি।
আপনি নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করতে পারেন এবং একইসাথে নির্মিত স্থাপত্যকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, কারণ ওই স্থাপত্য কখনোই নির্মাণশৈলীর প্রতিনিধিত্ব করে না। কোনো কাজের দক্ষতার প্রশংসা করা আর সেই কাজের কারিগরকে উদ্যাপন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অথচ আমরা বারবার মানুষকে এই দুটি ব্যাপারকে এক কাতারে ফেলে দিতে দিই, যাতে করে জটিল আলাপ এড়ানো যায়।
“তিনি খারাপের প্রতিনিধিত্ব করতেন”, এ কথা বলা খুব সহজ, এবং এটুক বলেই আলোচনা শেষ করে দেওয়া যায়। আমি আপনাদেরকে তিনটি জিনিস দেখাতে চাই। প্রথমত, ১৯৪০ সালে যখন বাংলার প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন থাকার একটা সুযোগ সামনে এসেছিল, তখন জিন্নাহ ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের সেই সম্ভাব্য রূপকে নাকচ করে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, বাংলার ওপর তিনি যেভাবে উর্দু চাপিয়ে দিয়েছিলেন, তার সাথে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে অভিহিত করার মিল আছে। চরম অবজ্ঞা করা, যা নিজের তৈরি করা বিপদের মাত্রাটিই বুঝতে পারে না। উভয়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই ধরনের আচরণ তাদের প্রকল্পকে শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।
তৃতীয়ত, আপনি যদি একেবারে কট্টর পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদীও হন, যদি মনে করেন দ্বিজাতি তত্ত্ব সঠিক ছিল এবং পার্টিশন ন্যায্য ছিল, তাও জিন্নাহ আপনার নায়ক নন। কারণ, তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন যে পাকিস্তান টিকে থাকবে না।
লাহোর প্রস্তাব এবং বাংলা
১৯৪০ সালের মার্চে, লাহোরের মিন্টো পার্ক। লাহোর প্রস্তাব, যেটা পরে “পাকিস্তান প্রস্তাব” নামে পরিচিত হলো, সেটা উত্থাপন করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক, জিন্নাহ নন। ফজলুল হকের নেতৃত্বে বাংলার প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাতে ঢাকা থেকে লাহোরে গিয়েছিল। আর মূল প্রস্তাব ভালোভাবে পড়ে দেখুন, সেখানে কোথাও “পাকিস্তান” শব্দটি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এতে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ” গঠন করা উচিত। আর সেই রাষ্ট্রগুলোর গঠনকারী এককগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। একটি মহাদেশের দুই প্রান্তে বিস্তৃত একটি রাষ্ট্র নয়। একাধিক রাষ্ট্র, যার প্রত্যেকটি নিজস্বভাবে শাসিত হবে। এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাও আছে, আমিই প্রথম ব্যক্তি নই যে এমন ব্যাখ্যা দিচ্ছি যে ফজলুল হক বিষয়টিকে দুটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বুঝেছিলেন: একটি বাংলা-কেন্দ্রিক, আরেকটি পাঞ্জাব-সিন্ধু-সীমান্ত অঞ্চলকে নিয়ে। দুটির প্রত্যেকটি নিজেদের বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করবে এবং নিজেদের জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবে, বোম্বে, করাচি বা লাহোরের কাছে নয়।
একজন বাঙালি মুখ্যমন্ত্রী যে একাধিক রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে সেই সভায় গিয়েছিলেন এবং তাতে নিজের নাম যুক্ত করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত বোম্বের এক আইনজীবীর একক রাষ্ট্রের ধারণার কাছে হারিয়ে যায়। তিনি সঠিকভাবেই বুঝেছিলেন এবং এটি প্রমাণিতও হয়েছে যে, দুটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের প্রস্তাব ব্রিটিশদের কাছে এবং ইতিহাসের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা, একটি একক রাষ্ট্রের প্রস্তাবের তুলনায় কঠিন হবে। তিনি জানতেন তিনি কী করছে। তিনি বাংলার নিজস্ব সার্বভৌমত্বের প্রস্তাবকে নিরবে এমনভাবে পুনর্লিখন করেছিলেন, যাতে বাংলা শেষ পর্যন্ত উপমহাদেশের অন্য প্রান্ত থেকে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রের অধীন হয়ে পড়ে।
“পাকিস্তান” নামটিও আসলে ওই প্রস্তাবে ছিল না। নামটি দিয়েছিলেন কেমব্রিজের ছাত্র রহমত আলী। পরে সেটিকে ফজলুল হকের প্রস্তাবের ভাষার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়, যেন নামের মোড়ক দিয়ে এই সত্যটা আড়াল করা যায় যে শেষ পর্যন্ত যে রাষ্ট্রটি গড়ে উঠল তার সঙ্গে বাংলার প্রস্তাবটির মিল খুব সামান্যই ছিল। এটা ইতিহাসের পাদটীকা না, এটাই ছিল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্র হয়ে ওঠার আগে, পাকিস্তান ছিল একটা প্রতিশ্রুতির বরখেলাফ। যে অঞ্চল প্রদেশটি তার পাকিস্তান ধারনা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল, তার কাছে।
উর্দু এবং অবজ্ঞার রাজনীতি
আট বছর পর। জিন্নাহ তখন গভর্নর জেনারেল, পাকিস্তান তখন বাস্তব একটি রাষ্ট্র, আর ১৯৪৮ সালের মার্চে তিনি ঢাকায় এসে এক নাগরিক সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের বলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, একটি রাষ্ট্র একটিমাত্র রাষ্ট্রভাষা ছাড়া ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে না, আর যারা তাদের অন্য কথা বোঝাচ্ছে, তারা পাকিস্তানের শত্রু।
একজন মানুষ, সদ্য প্রতিষ্ঠিত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী তথা বাংলাভাষীদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, তাদের নিজেদের ভাষা রাষ্ট্রভাষা হতে পারে না এবং এর বিরোধিতা করলেই তারা বিশ্বাসঘাতক। এটা নিছক কোনো একটি অনুষ্ঠানে অসাবধানতাবশত বলে ফেলা কথা ছিল না। কয়েক দিন পর কার্জন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনেও তিনি একই ধরনের কথা আবার বলেন। সেই শিক্ষার্থীরাই পরে এমন এক আন্দোলন গড়ে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর এই অবস্থানের জবাব দিয়েছিল।
আমি মনে করি না, জিন্নাহ বসে বসে পাকিস্তানকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিলেন। আমার মনে হয়, আরও খারাপ কিছু হয়েছিল। তিনি বাঙালিদের এমন রাজনৈতিক সমকক্ষ হিসেবে ভাবতেই পারেননি, যাদের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার। এই ধরনের কাঠামোগত অন্ধত্ব এতটাই গভীর ছিল যে, এরকম আচরণকে ইচ্ছাকৃত বলেই মনে হয়। আর এই লেখাটা এখন যিনি ঢাকায় বসে পড়ছেন, তার অস্বস্তি বোধ করার মতো একটি জায়গা হলো, আমরা একইরকম ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখেছি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনা এমন এক ছাত্র আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যেটিকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করার মতো কিছু মনে করেননি। তিনি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’, ‘দোসর’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি কথাগুলো বলেছিলেন অবজ্ঞা থেকে। কিন্তু এর বদলে যা ঘটল, তা হলো—তিনি একটি পুরো প্রজন্মকে এমন একটি তকমা দিয়ে দিলেন, যেটিকে তারা উল্টো নিজেদের পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করল। তারা সেই শব্দই তাঁর দিকে ফিরিয়ে স্লোগান দিতে থাকল, সেই স্লোগানই এমন এক আন্দোলনে পরিণত হলো, যা তাঁর শাসনের অবসান ঘটায়। নিজের সরকারকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া আগুনের স্ফুলিঙ্গ হাসিনাই জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি কখনো এমন পরিণতির পরিকল্পনা করেননি। কারণ তিনি এতটাই অহংকারী ছিলেন, যাদেরকে তিনি অপমান করছিলেন, তারা তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে পারে, এমনটা তার কল্পনার বাইরে ছিল।
১৯৪৮ সালে জিন্নাহ একই কাজ করেছিলেন। তিনি “পাকিস্তানের শত্রু” কথাটি ব্যবহার করেছিলেন এমন এক অপমানসূচক তকমা হিসেবে, যা ভিন্নমতকে থামিয়ে দেবে বলে তিনি ভেবেছিলেন। অথচ হলো উল্টোটা, এটাই হয়ে উঠল ভাষা আন্দোলনের সূচনাবাক্য। সে আন্দোলন ১৯৫২ সাল জুড়ে চলেছিল, একুশে ফেব্রুয়ারির মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৭১-এর আদর্শিক ভিত্তি গড়ে দিয়ে থামলো।
দুজন রাজনীতিক, সময়ের ব্যবধান ছিয়াত্তর বছর। দুজনেই মনে করেছিলেন, অবজ্ঞা তাঁদের একটি অস্ত্র। আর দুজনেই শেষ পর্যন্ত দেখেছেন, যে মানুষদের লক্ষ্য করে সেই অবজ্ঞা ছোড়া হয়েছিল, তারাই সেটিকে নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে এমন এক শক্তিতে পরিণত করেছে, যা তাঁদেরই পতন ডেকে এনেছে। এই গল্পে জিন্নাহ কোনো নায়ক নন। তিনি এমন এক খলনায়ক, যিনি নিজের পতনের বীজ গল্পের প্রথম অধ্যায়েই বপন করে দেন, অথচ নিজেই তা বুঝতে পারেন না। ঠিক হাসিনার মতো।
জিন্নাহর তৈরি পাকিস্তান
এখন একটি বিষয় আমি চাই ডাকসু অনুধাবন করুক, কারণ এর জন্য বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে আমার বলা একটি কথার সাথেও আপনাকে একমত হতে হবে না। ধরা যাক, আপনি এর কোনো কিছুই বিশ্বাস করেন না। ধরা যাক, আপনি মনে করেন দেশভাগ প্রয়োজন ছিল, দ্বিজাতি তত্ত্ব সঠিক ছিল এবং একটি ধারণা হিসেবে পাকিস্তান শ্রদ্ধার যোগ্য। বেশ। কিন্তু তা হলেও জিন্নাহ আপনার লোক নন।
ভারতীয় ভূখণ্ডের হাজার মাইলের ব্যবধানে দুই অংশ নিয়ে গড়ে ওঠা একটা দেশ, যার বড় অংশটাকে সংখ্যায় ছোট কিন্তু প্রভাবশালী অংশটির কেবল সম্পদ লুটের উৎস হিসেবে দেখেছে, এরকম একটা রাষ্ট্র টিকে থাকা কখনোই সম্ভব ছিল না। এটি ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা। সেই সময়েও অনেকে এই কথাটি বলেছিলেন, যাদের মধ্যে বাংলার সেই নেতারাও ছিলেন যাদের বহুমাত্রিক রূপরেখা লাহোরে মুছে ফেলা হয়েছিল। পূর্ব বাংলা পাট উৎপাদন করত, আর তা থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করত পশ্চিম পাকিস্তান।
পূর্ব বাংলায় ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, আর পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে ছিল আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী এবং সরকারী ভাষাও। জিন্নাহ এমন একটি রাষ্ট্র গড়েছিলেন যা ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার দিক থেকে ছিল অবাস্তব। তারপরও, দুই অংশকে ভাষা বা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের মতো কোনো অধিকার দিয়ে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা না করে, তিনি এমন এক নীতি বেছে নিলেন যা সংখ্যাগরিষ্ঠদের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছিল।
পাকিস্তানের চূড়ান্ত ভাঙন ঠেকানোয় তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তারচেও খারাপ ব্যাপার হলো, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই, সেই ভাঙনের বীজ বুনে দিয়েছিলেন রাষ্ট্র গঠনের দলিলপত্রে আর প্রথম দিককার বক্তৃতাগুলোতে। একটি দেশের জন্য চব্বিশ বছর খুব বেশি সময় নয়, বিশেষ করে যে দেশটিকে বলা হয়েছিল এক মহান সভ্যতার নিজের ঘরে ফেরার গল্প। আপনি যদি পাকিস্তানকে ভালোবেসে থাকেন, তবে এই রাষ্ট্রটিকে যিনি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন তার প্রতি কৃতজ্ঞ না হয়ে আপনার ক্ষুব্ধ হওয়ার কথা।
সংগ্রহশালার দেয়ালের ছবিগুলোর কথায় ফিরে আসা যাক। জিন্নাহর ছবিগুলো কারা টাঙিয়েছিল কিংবা তারা কোন ধরনের নস্টালজিয়ায় ভুগছিল, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। সেটা হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ঐক্যবদ্ধ মুসলিমদের “সোনালী দিনগুলো” নিয়ে কোনো রোমান্টিক ধারণা, বা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্ররাজনীতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তার রাজনৈতিক বক্তব্যই।
মূল বিষয় হলো এই ধারণাটি যে জিন্নাহ কোনো সম্মানজনক স্থানে থাকার যোগ্য। তিনি যোগ্য নন। বাংলাদেশে তো নয়ই, কারণ তিনি আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এমনকি টেকনিক্যালি দেখতে গেলে খোদ পাকিস্তানেও নয়, কারণ পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকাটা যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়ও, জিন্নাহই তো প্রথম সেই কারণগুলো সৃষ্টি করেছিলেন যা নিশ্চিত করেছিল যে দেশটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে না।
এই বিতর্কটি এমনভাবে চলছে যেন এটি কেবল ঐতিহাসিক স্মৃতির লড়াই, কোথায় কার ছবি টাঙানো হবে তা নিয়ে দ্বন্দ। আসলে তা নয়। দ্বন্দটা মূলত, জাতীয় ঐক্যের দোহাই দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতি দেখানো চরম অবজ্ঞাকে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহান প্রজ্ঞা হিসেবে মনে রাখা হবে, নাকি সেটাকে ভুল হিসেবে স্মরণ করা হবে। শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক লাহোরের সেই সভাটিতে একাধিক স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম রাষ্ট্রের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। জিন্নাহ একটিমাত্র শব্দ দিয়ে তার জবাব দিয়েছিলেন এবং সেই রূপরেখাকে মুছে দিয়েছিলেন।
