আমি যখন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে প্রথম পা রাখলাম, আমার মাথায় ছিল লম্বা চুল, পরনে ছেঁড়া শার্ট, বেল্ট নেই, আর পায়ে স্যান্ডেল। এটা ছিল হাইস্কুলের অনেক বছর ধরে গড়ে তোলা আমার নিজস্ব একটা ভাবমূর্তি, যেটা প্রমাণ করে আমি ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে পারি, এর জন্য কারও উপদেশ দরকার হয় না।
কিন্তু আমাকে নিয়ে কলেজের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম।
সেখানে প্রথম সপ্তাহে এক নাপিত আমাকে এমন ছাঁট দিলো, যেটাকে উত্তরায় সবাই ‘রাজউক কাট’ নামে চেনে। কলেজের সব ছেলেকে শেষ পর্যন্ত এভাবে চুল ছাঁটতে হতো। আমার মনে হলো, ব্যাপারটা তাহলে এই– একটা প্রতিষ্ঠান একটা কাঁচি দিয়ে একজন কিশোরের স্বাতন্ত্র্য ছেঁটে দিলো।
সিস্টেমের সাথে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ইউনিফর্মের ফাঁকফোকর গলেই আমি নিজস্বতা খুঁজতে থাকি। বিতর্ক ক্লাবের জন্য আমি একটা নিজস্ব শোল্ডার ব্যাজ বানিয়ে ফেলি, চিহ্নটার অনুমোদন ছিল না। তবে এটা আমাকে রুমের অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখাত। এই কাজের জন্য, অর্থাৎ স্বাতন্ত্র্য মুছে ফেলার জন্য তৈরি হওয়া একটি ব্যবস্থার ভেতরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার অপরাধে, আমি এক প্রকার সুনাম অর্জন করে ফেললাম।
বেশকিছু শিক্ষকের চোখে আমি ছিলাম ‘বাজে ছেলে’।
পৌরুষ জিনিসটা মসৃণভাবে বাবার কাছ থেকে ছেলের মধ্যে হস্তান্তর হয় না। এটি মূলত বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এক দর-কষাকষি, যা সামলানোর মতো খুব বেশি হাতিয়ার একটা ছেলের হাতে থাকে না। তার যা থাকে, তা মূলত তার নিজের শরীর: চুল, পোশাক, বসার ভঙ্গি, ছোট ছোট প্রতিবাদ।
সেই অর্থে, ‘বাজে ছেলে’ হয়ে ওঠাটাকে নৈতিক স্খলন বলা যায় না। এটি মূলত বড়দের এঁকে দেওয়া সীমানাগুলোতে একটা ছেলের প্রথম হাত বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা, যে বিষয়ে ছেলেটার নিজস্ব কোনো মতামত ছিল না। নিজের জন্য এঁকে দেয়া চিত্রের কতটুকু সে রাখবে আর কতটুকু ছুড়ে ফেলবে, তা প্রথমবারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া। লম্বা চুল, কানে দুল, শার্টের খোলা বোতাম, কিংবা কেঁদে-কেটে আদায় করা একটা ফোন আর জমানো টাকায় কেনা একটা সাইকেল—এগুলো কোনো সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়।
এগুলো আসলে সেই সন্তানের নিজস্ব একটা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার টানাপোড়েন মাত্র, যে গন্তব্য একান্তই তার।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম সুযোগই পেল না তার নিজের এই ঘাত-প্রতিঘাতের রূপ কেমন হতে পারত তা জানার। সে ছিল মাত্র ১৩ বছরের এক কিশোর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। এক শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার জন্য মায়ের আইফোনটি নিয়ে সে ঘর থেকে বের হয়েছিল। আর কখনো ঘরে ফেরেনি। পরদিন ক্যাম্পাসের কাছের এক ঝোপঝাড়ের ভেতর মিলল তার লাশ, মাথায় মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, তার পরিবার যখন প্রথম জানাজার প্রস্তুতিও শেষ করতে পারেনি, ঠিক তখনই ইন্টারনেটে আলোচনার মোড় ঘুরে গেল। খুনির ওপর থেকে নজর সরে গিয়ে আলোচনা এসে জমা হলো তার ওপর। ১৩ বছরের একটা ছেলের হাতে আইফোন কেন?
সে ঘরে না থেকে কেন বন্ধুদের সাথে ছবি তুলতে বাইরে গেল? কেমন বাবা-মা যারা ছেলেকে এভাবে ঘুরে বেড়াতে দেন? ছেলেটা একদিন চলে গেল, আর পরদিনই তাকে দাঁড় করানো হলো নিজের মৃত্যুর দায় মেনে নেওয়ার বিচারে।
একটি ছেলের ফোন, লম্বা চুল বা বাইকের প্রতি আগ্রহ থাকার সাধারণ কারণ আছে, যার সাথে ‘নষ্ট হওয়া’র সম্পর্ক খুব কম। সমাজবিজ্ঞানী চার্লস কুলি ‘লুকিং গ্লাস সেলফ’ ধারণায় দেখিয়েছেন, কোনো শিশু নির্জন ঘরে একা একা নিজের পরিচয় গড়ে তোলে না।
সে তার পরিচয় গড়ে তোলে চারপাশের মানুষের চোখে নিজেকে কেমন লাগছে তা কল্পনা করে, আর তাদের সেই বিচারকে নিজের সত্তার ভেতরে জায়গা দিয়ে। একটা ছেলে কখনোই নিছক লোভের বশে ফোন চায় না। সে ফোন চায় কারণ তার বন্ধুদের তা আছে; বন্ধুদের চোখে সেই ফোনটি হাতে রাখলে সে ‘কেউ একজন’ হয়ে ওঠে, সাধারণ কারও মতো ভিড়ে হারিয়ে থাকে না।
কোনো একটা জিনিস চাওয়া গল্পের অর্ধেকটা মাত্র। একটা ছেলেকে যখন মর্যাদার প্রচলিত ধারণাগুলো, তথা শ্রদ্ধা পাওয়া, স্কুলে প্রশংসা, কিংবা পরিবারের গর্ব করার মতো রিপোর্ট কার্ড পাওয়া ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করা হয়, আর এক নিঃশ্বাসে তাকে এটাও বলে দেওয়া হয় যে চুল বা পোশাকের মাধ্যমেও সে একটা অবস্থান খুঁজতে পারবে না, তখন তার যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা থাকে না।
অপরাধবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট কোহেন একে বলেছেন ‘স্ট্যাটাস ফ্রাস্ট্রেশন’ বা অবস্থানজনিত হতাশা। এটি দিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় ব্যাখ্যা করা যায়—কেন যেসব ছেলে ‘ভদ্র ছেলে’র নিয়মে জিততে পারে না, তারা সেই নিয়মে জেতার চেষ্টা একসময় একেবারে ছেড়েই দেয়। তারা নিজেদের জন্য তৈরি করে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মানদণ্ড, যেখানে প্রকাশ্য ভিন্নতা আর টুকিটাক ঝামেলা হয়ে ওঠে মূল বিষয়। কিন্তু তারপরও, ফোনটি যখন শেষ পর্যন্ত তার হাতে আসে, ছেলেটি হয়তো কখনোই নিছক বস্তুটির পেছনে ছুটছিল না।
ফরাসি চিন্তাবিদ জাঁ বোদ্রিয়ার যুক্তি দিয়েছিলেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা কখনোই নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর জন্য নয়। এটি মূলত নিজেকে আলাদা প্রমাণের আকাঙ্ক্ষা, নিজের চারপাশে ঘুরতে থাকা সামাজিক পরিচয়ের ভেতরে একটুখানি জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা। তাই অপ্রতীমের সঙ্গে যা ঘটেছে তার জন্য আইফোনকে দোষ দিলে, মূল বিষয়টিকে ছেড়ে ভুল একটা ব্যাপারকে দোষ দেওয়া হয়।
অপ্রতীম অন্য এক ব্যক্তির হাতে খুন হয়েছে। একটি ফোনের জন্য। এই ঘটনা তীব্র নিন্দা ও গভীর শোকের দাবি রাখে। তবে দেখা গেল, পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি আরেকটা ঘটনা নিঃশব্দে ঘটে গেছে, যার সাথে কে আসলে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল তার কোনো সম্পর্ক নেই। কর্মকর্তারা ঘটনার পুরো চিত্রটা স্পষ্ট করার আগেই, জনমানুষের আলোচনা ঘুরে গেল ভিন্ন প্রশ্নে—এবার আর প্রশ্নটা ‘কে এটি করল’ তা রইল না, বরং ‘কোন ধরনের ছেলে আর পরিবার এই বিপদ ডেকে আনে’ সেটাই হয়ে উঠল মূল প্রশ্ন।
এই প্রশ্ন কোনো খুনির কাছ থেকে আসেনি। এটি এসেছে টাইমলাইন, কমেন্ট সেকশন আর গ্রুপ চ্যাট থেকে। নিজেদেরকে কৈশোরের এক নির্দিষ্ট অনুমোদিত রূপের অভিভাবক মনে করা মানুষের মুখ থেকে। লেবেলিং থিওরির প্রবক্তা সমাজবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড বেকার যুক্তি দিয়েছিলেন, বিচ্যুতি কোনো কাজের নিজস্ব গুণ নয়।
এটি মূলত একটি লেবেল বা তকমা, যার প্রয়োগ করার ক্ষমতা হাতে থাকে সে-ই এটি তৈরি করে এবং সেঁটে দেয়। সেই তকমা সাঁটার যন্ত্র শোক কাটানোর সুযোগটুকুও দিল না; তার আগেই অপ্রতীমের গায়ে এমন এক রায় লাগিয়ে দেওয়া হলো, যার প্রতিবাদ করার জন্য সে আর বেঁচে নেই।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ‘কিশোর গ্যাং আতঙ্ক’ ছড়াচ্ছে—এবং এটি একেবারে হাওয়া থেকে ভেসে আসেনি। কিশোর গ্যাংয়ের কারণে অপরাধ ঘটার প্রমাণ অনেক নথিপত্রে রয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক তো আর প্রমাণের সীমানায় থেমে থাকে না, তা নিজের গতিতেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাইকে চেপে যাওয়া কোনো ছেলে, চুল স্টাইল করা কোনো কিশোর, কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দেরিতে বাইরে বের হওয়া পকেটে ফোন থাকা এক তরুণ—উদ্বিগ্ন আমজনতার চোখে এই সবই যেন এখন এক গল্পের সূচনা, যা কোনো এক পুলিশ কেসে গিয়ে শেষ হবে।
অপ্রতীম কখনো কোনো গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত ছিল না। সে ছিল স্রেফ এক কিশোর, যে বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার জন্য মায়ের ফোনটি চেয়ে নিয়েছিল। এমন এক দেশে সে মারা গেল, যে দেশ তার মতো বয়সীদের শিশু হিসেবে দেখার আগেই ‘বিপদের সংকেত’ বলে ধরে নিতে অভ্যস্ত। ঠিক এই অভ্যস্ত মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি দেখা যায় আরও পুরোনো ও কুৎসিত কিছু প্রশ্নে—যেখানে জানতে চাওয়া হয় ধর্ষণের শিকার নারীটি কী পোশাক পরেছিল, কেন সে অত দেরিতে বাইরে ছিল, আর কেনই-বা সে ঘরে বসে থাকল না।
দুটো প্রশ্নের অন্তরালেই লুকিয়ে আছে সেই একই সন্দেহ, একই খোঁজাখুঁজি—ভিকটিম কোনোভাবে তার নিজের পরিণতি ডেকে এনেছে কি না, তার এক প্রকারের প্রমাণ বের করা। এটি আদতে সেই প্রশ্নকর্তাদের কঠিন সত্যের মুখোমুখি হওয়া থেকে খুব সুবিধাজনকভাবে রেহাই দেয়। একজন খুনির মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেয়ে এক মৃত শিশুর ফোনে দোষ খোঁজা অনেক বেশি সহজ।
এই সবকিছুর গভীরে আসলে কাজ করছে এক জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কলকবজা, আর ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো তাঁর গবেষণার বড় একটা অংশ ব্যয় করেছেন তারই রূপরেখা তুলে ধরতে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আধুনিক শাসন বা অনুশাসন ব্যবস্থা মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শুধু অপরাধের পর শাস্তির ভয় দেখায় না; বরং তার চেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সমাজের সেই অদৃশ্য ‘নজরদারি’ বা ‘স্বাভাবিকীকরণের দৃষ্টি’ (normalizing gaze)। জীবনের প্রতিটা পদে ছড়িয়ে থাকা এই নজরদারি মানুষ এমনভাবে নিজের অজান্তেই আয়ত্ত করে নেয় যে, তারা একে অপরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করতে শুরু করে। কে উপযুক্ত, কে নিরাপদ, আর কে নিরীহ—এবং কে তা নয়—সেসবের বিচার তারা সেরে ফেলে, এমনকি কেউ কোনো অপরাধ করার বহু আগেই।
সন্দেহের খাতায় নাম ওঠার জন্য অপ্রতীমকে কোনো অপরাধ করতে হয়নি। তেরো বছর বয়সের তিনটি অতি সাধারণ অনুষঙ্গ—একটি ফোন, একটি বাইক আর বন্ধুদের একটি দলই যথেষ্ট ছিল, যাতে সেই স্বাভাবিকীকরণের দৃষ্টি তাকে এক ‘শিশু’ হিসেবে দেখার বদলে সম্ভাব্য ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তাকে নিরাপদ রাখতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার পাশাপাশি এটি দাঁড়িয়ে থাকে দ্বিতীয় আরেকটা নীরব ব্যর্থতা হিসেবে—এমন এক সংস্কৃতি, যা নিজের সন্তানদের আগে নিয়ন্ত্রণের যোগ্য ঝুঁকি হিসেবে দেখতে শিখেছে, আর শিশু হিসেবে দেখার সুযোগ যদি কখনো হয়, তাও হবে অনেক পরে।
আমি শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাকই বেড়ে উঠেছিলাম, অন্তত চলার মতো। যদিও সেই সন্দেহের নজর কখনোই পুরোপুরি সরে যায়নি। রাজউকে আমি একসময় প্রিফেক্টও হয়েছিলাম, তবে আমার ফর্ম মাস্টার আমার এপোলেটে দ্বিতীয় স্টারটা অনুমোদন করতে রাজি হননি, তৃতীয় স্টারের কথা তো বাদই দিলাম। সেগুলো অন্য কোনো বেশি বিশ্বস্ত, বেশি বাধ্য ছেলের কাঁধে উঠলে কেউ ভুলেও আপত্তি করতো না।
একটি স্টারই ছিল আমার মতো ‘অবাধ্য’ ছাপ মারা ছেলের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা। তারপর থেকে আমি অনেকবার ভেবেছি, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যেসব সুযোগ আমার হাতছাড়া হয়েছিল, এর পেছনে কি আসলে ওই পুরোনো সন্দেহের ছকের হাত ছিল? এমন এক ছক, যা আমাকে কোনোদিন দেখানো হয়নি। অন্তত এসব নিয়ে ভাবার মতো বয়স পর্যন্ত আমি তো বেঁচে ছিলাম, কিন্তু অপ্রতীম সে সুযোগটুকুও পেল না।
এটি কখনোই স্রেফ একজন মৃত কিশোরের বিষয় ছিল না। এটি সেই সব জীবিত কিশোরকে নিয়ে, যাদের এখনো সেই একই চশমা দিয়ে দেখা হচ্ছে। মুরুব্বিদের হাত ধরে এই যে কিশোরদের ওপর নজরদারি— চুল নিয়ে, ফোন নিয়ে, বাইক নিয়ে, কিংবা কানের দুল নিয়ে—এটা কাঁধ ঝাঁকিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো নিরীহ সামাজিক অভ্যাস নয়। এটি মূলত বিচারব্যবস্থারই এক জ্যান্ত রূপ, যা একটা ছেলেকে সেলুনের চেয়ার থেকে শুরু করে স্কুলের গেট পর্যন্ত ধাওয়া করে; আর অপ্রতীমের ক্ষেত্রে যা তাকে ধাওয়া করেছে ইন্টারনেটের সেই অন্ধকার কোণ পর্যন্ত, যেখানে বসে মানুষ নিজের খুনের জন্য তাকেই অভিযুক্ত করার মতো সময় খুঁজে নিয়েছে।
এখানে যার মৃত্যু কাম্য, তা কোনোদিনই সেই শিশুটি না। মৃত্যু দরকার মুরুব্বিয়ানার সেই একচ্ছত্র আধিপত্যের, যেখানে তাঁরা নিজেদেরকে শৈশব-কৈশোরের বিচারক ভেবে বসেন, যা তাঁরা নিজেরা কীভাবে পার করে এসেছেন তা আর মনেই রাখেন না। মৃত্যু দরকার তাঁদের সেই নীরব, নিরবচ্ছিন্ন একগুঁয়েমির, যা একটি ছেলেকে ১৩ বছর বয়স পার করতে দেয় না।
