আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, শোষণ প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক অভিবাসন কাঠামো নিশ্চিত করার দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নাগরিক-অধিকারভিত্তিক সংগঠন “মুক্তিফোরাম” । স্মারকলিপিটি মুক্তিফোরামের একটি প্রতিনিধি দল ৩১ মে, ২০২৬ তারিখে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে উপস্থাপন করে। স্মারকলিপিটি গ্রহণপূর্বক মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর আশ্বস্ত করেন যে, শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে আলোচ্য দাবিসমূহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় এবং যুগোপযোগী সকল ধরনের পদক্ষেপ ও উদ্যোগ নেয়া হবে।
স্মারকলিপিতে মুক্তিফোরাম জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিদেশে কর্মস্থল পর্যন্ত নানা স্তরে শোষণ, প্রতারণা এবং অধিকারহীনতার শিকার হচ্ছেন। সংগঠনটি এ পরিস্থিতিকে একটি মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার সংকট হিসেবে উল্লেখ করে।
মুক্তিফোরাম তাদের স্মারকলিপিতে ১০ দফা নীতিগত দাবি উত্থাপন করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ
- প্রতারণার শিকার ও প্রত্যাবর্তনকারী শ্রমিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুনর্বাসন
- নারী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ উদ্যোগ
- বিদেশে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের মরদেহ দ্রুত (৩ দিনের মধ্যে) সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার ব্যবস্থা
- স্বল্পসুদে ১০-২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ও ‘ওয়ার্ক পারমিট’ সহায়তা
- ‘রিক্রুটিং এজেন্সি’র জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ও মানবপাচার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ
- মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক শ্রম চুক্তি
- দূতাবাসে ‘শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ডেস্ক’ ও সময়সীমাবদ্ধ অভিযোগ নিষ্পত্তি
- প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবার ও সন্তানের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা
- পাসপোর্ট (MRP ও ই-পাসপোর্ট) সেবা দ্রুততর ও সময়সীমাবদ্ধ করা
- বিমানবন্দরে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করা
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকে সামনে রেখে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা কোনো অনুগ্রহের বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। যেমন বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ফি মওকুফ করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও, প্রতি বছর প্রায় ১০.৭৬ লক্ষ শ্রমিকের কাছ থেকে শুধুমাত্র ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল’ ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক সার্ভিস ফি বাবদ রাষ্ট্র ৫০০ কোটি টাকার অধিক সরাসরি রাজস্ব পাচ্ছে। এই বিপুল তহবিল থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের কল্যাণ ও তাদের ভোগান্তিবিহীন অভিজ্ঞতা নিশ্চিতকরণে সরকারের সন্তোষজনক অগ্রগতি এখনো চোখে পড়েনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
মুক্তিফোরাম সরকারের প্রতি তাই আহ্বান জানায়, এসব প্রস্তাব দ্রুত বিবেচনা করে সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে।
